চাকরি থেকে বরখাস্তের পর কারাগারে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য

ঢাকার মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে একজন আনসার সদস্য ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। পরে ডিজিএফআই এর দুইজন সেনা সদস্য কোর্ট মার্শালে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় উভয়কে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে বেসামরিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার দুই সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই সদস্যের বিচারিক প্রক্রিয়া সামরিক আইনে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তদন্ত আদালত গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের নিজেদের হেফাজতে চায় সংস্থাটি। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত শনিবার রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হলে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯), ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোণার কলমাকান্দার মাহফুজুর রহমান (২২) ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের জিয়াউল ইসলাম (৩৫)। এ ঘটনায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফের সঙ্গে প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার পরিচয় ছিল। শনিবার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে সোহেল তাকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে সোনিয়া নামে এক নারীকে নিজের বোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। পরে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর অন্য আসামিরা ওই বাসায় গিয়ে শরীফকে মারধর করেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শরীফ তাদের ৭০ হাজার টাকা দেন। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভোর ৩টার দিকে শরীফকে একটি টয়োটা গাড়িতে তুলে শেরেবাংলা নগরের শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্তরা চা পান করতে নামলে তিনি পুলিশের একটি টহল গাড়ি দেখে দৌড়ে গিয়ে সহায়তা চান। পরে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশু হাসপাতালের কাছে পুলিশের চেকপোস্টে ওই ব্যবসায়ী সহায়তা চাইলে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে গাড়িসহ মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজন ডিজিএফআই সদস্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেনাসদরের কর্মকর্তারা থানায় এসে বিষয়টি যাচাই করেন। এরপর তাদেরও মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।