আশুলিয়ায় ১৭ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

ঢাকার আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ১৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নরসিংপুর, নিশ্চিন্তপুর, সরকার মার্কেট ও আশপাশের এলাকার এসব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় হামীম টিসল, শারমিন গ্রুপ, অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ গার্মেন্টস, আল-মুসলিম, টাওজার লাইন লিমিটেড, নীট এশিয়া লিমিটেড, টিসল ৪ বিঘা (হামীম গ্রুপ), ভিনটেজ গার্মেন্টস, এডিএল (হামীম গ্রুপ), মেডলার গার্মেন্টস, দি রোজ গার্মেন্টস, এনভয় গার্মেন্টস, এ এম ডিজাইন লিমিটেড, বান্দ ডিজাইন লিমিটেড ও এনসিএল (হামীম গ্রুপ)।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে নতুন বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হন মালিক পক্ষের প্রতিনিধি। ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে এবং জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বর্ধিত মজুরি হাতে পাবেন বলে মালিক পক্ষ একমত হয়েছে। এই বোর্ড পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ করবে।

সবশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। পরের বছরের জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা বর্ধিত মজুরি পেতে শুরু করেন। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হতো। তবে ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে শ্রম আইন সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।