বিজয় দিবসে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৪৪টি প্লট।

এসব প্লট বরাদ্দে অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কোনো কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি কাজ করছে। রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে কমিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে। এ পর্যন্ত পূর্বাচলের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিলের ২০০টি প্লট-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথি-সংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কবরস্থান-সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, সরকারি অবকাঠামোয় রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। ভবনগুলোর নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি বছরে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা শেষে সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন ও মো. তাজউদ্দীন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।