আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা দেশের বুকে চেপে বসেছিল: রাষ্ট্রপতি

 

বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একজনকে কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় পরিবারের হাসি, স্বপ্ন, অস্তিত্ব।”

তিনি বলেন, ভিন্নমত দমনে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল সুমনসহ অগণিত মানুষকে গুম করা হয়। ব্যারিস্টার আরমান, জেনারেল আজমীসহ অনেককে বছর পর বছর আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল।

গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন ১,৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। নির্বাচনের আগে গুম বেড়ে যেত, যা প্রমাণ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই এগুলো করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। প্রতিটি গুমের অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক, বিচারের মুখোমুখি হবে। ফ্যাসিবাদ ফেরার সব পথ বন্ধ করা হবে।”

তিনি বলেন, শুধু শাস্তি নয়, গুম হওয়া পরিবারের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।