শিগগিরই লবণের নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবের জন্য শিগগিরই লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষক নয়, লবণ চাষিদের মাঝেও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবে শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার।

তিনি বলেন, একটি কথা এসেছে যে লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার। আলোচনা করে আমরা ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণ চাষী ভাইদের স্বাবলম্বিতা আসবে, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে। আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

এ সময় সমুদ্র উপকূলে কল-কারখানা স্থাপনেরও ঘোষণা দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র হলো জনগণের বড় সম্পদ। এই সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই এই সরকারের দায়িত্ব। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সময় লাগবে। বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরইমধ্যে সেই কাজে হাত দিয়েছি।

তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।

জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।

এরপর তিনি বলেন, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।