যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ আখ্যা দিয়ে কড়া বার্তা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব পণ্যবাহী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনাকে ‘জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর আরব নিউজের।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়,  ওই জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে লুলা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেবেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক সেই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে তিনি জোরপূর্বক ২০ শতাংশ অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। অতীতে এই ধরনের কাজকে নির্ভেজাল জলদস্যুতা বলা হতো।’

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের এই একতরফা নীতির কড়া সমালোচনা করে আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী দেশ, যারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে এসেছে, তারা এখন নিজেরাই জলদস্যুতে পরিণত হতে পারে না।’

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এই সংঘাতের কারণে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বাজারে শিম, চাল, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের পাশাপাশি সব ধরনের জ্বালানির দামও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, এই আন্তর্জাতিক জলপথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজের নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা মেটাতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বাধা সৃষ্টি করেছিল। পরে জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা ও শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প আবারও এই প্রণালি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ও কড়া মাশুল আদায়ের ঘোষণা দেন।

আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে লড়তে যাওয়া ৮০ বছর বয়সী বামপন্থী এই প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান ও মার্কিন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে তার সরকার ইতিমধ্যে সাময়িক কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।