প্রস্তাবিত বাজেটের নাম ‘জীবন বান্ধব বাজেট’ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবন বান্ধব বাজেট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ আমরা যে বাজেট পেশ করছি, আমি এর নাম দিতে চাই জীবন বান্ধব বাজেট।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংসদ শুরু হওয়ার পর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি। উভয়পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, কিছু বিষয়ে মতভেদও হয়েছে। তবু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে আশার আলো দেখাতে পেরেছি। বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, সবাই একমত হলে তো একজনের বললেই হতো। আলোচনার দরকার হতো না। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি, মত ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেছি। এরপরও মনে হয় ধীরে ধীরে আমরা জাতির সামনে আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এই কাজটি শুধু আমাদের নিজেদের জন্য নয়। এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দেশের ২০ কোটি সাধারণ মানুষের। তাদের সহযোগিতার কারণেই আমরা উভয়পক্ষ এখানে বসে সুন্দরভাবে আলোচনা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব খাতের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। সেই অবস্থা থেকে ধাপে ধাপে দেশকে গণতান্ত্রিক অবস্থায় আনতে সরকার সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন সংসদে রাজনৈতিক দলের সদস্য, স্বতন্ত্র বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট সদস্য সবাই গণতান্ত্রিক ও সভ্য পরিবেশে জনগণের স্বার্থে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এ জন্য সংসদের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের সময় অনেক মূল্যবান। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। অতীতে কী ভালো-মন্দ হয়েছে, সেই বিতর্কে আর যেতে চাই না। দেশের মানুষ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুনতে চায়।

তিনি বলেন, সরকারি দলের সদস্য হিসেবে আজ যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এর নাম দিতে চাই ‘জীবন বান্ধব বাজেট’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল হিসেবে একটি সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী বাজেট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্বীকার করি, যত ভালো বাজেটই হোক, সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। বাস্তবতা অনেক কঠিন। তবু সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান দিয়ে এমন বাজেট তৈরির চেষ্টা হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।

তিনি বলেন, বাজেটে ৬১টি নিত্যপণ্যের শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে জনগণ, বিশেষ করে নারীরা ভালোভাবে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, গর্ব করে বলতে চাই না, তবে বাস্তবতা হলো—আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া যে, এই শুল্ক প্রত্যাহারের পর অতীতের মতো বাজেটের আগে বা পরে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবার দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব, তার কিছুটা হলেও সরকার পালন করতে পেরেছে এবং জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরেছে।