এলএসডি-এফএমডি ঠেকাতে ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আনছে সরকার, উৎপাদন বাড়ছে ৪ গুণ

গবাদি পশুকে রোগবালাই থেকে সুরক্ষা দিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (এফএমডি) প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বেসরকারিভাবে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এর মধ্যে এলএসডির জন্য ২ কোটি এবং এফএমডির জন্য ২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশে ভ্যাকসিনের উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। গত বছর যেখানে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ, এবার তা বাড়িয়ে ২০ লাখ করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান বলেন, এফএমডি ও এলএসডি রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বেসরকারিভাবে ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ায় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঘাটতি মোকাবিলায় চাহিদা অনুপাতে তারা ভ্যাকসিন আমদানি করবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ঘাটতি থাকায় ২ কোটি ডোজ ট্রাইভ্যালিন এফএমডি ভ্যাকসিন ও ২ কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন আমদানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক মুরগিতে লোপ্যাথোজনিক রোগ প্রতিরোধে এইচ৯এন২ ও এর বিভিন্ন কম্বিনেশন ভ্যাকসিনের ঘাটতি থাকায় ৫০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানির অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়ায় মশা, মাছি ও এঁটুলির তৎপরতা বেড়েছে। এর ফলে এলএসডি ও এফএমডির মতো ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব সংক্রামক রোগ থেকে প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাত রক্ষায় চলতি বছরে বড় পরিসরে ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. তারেক হোসেন বলেন, গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলএসডি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে এ রোগের প্রকোপ বেশি থাকে। এ রোগে গবাদি পশুর মৃতের হার ১০ শতাংশ। সময়মতো চিকিৎসা না করালে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়।

তিনি জানান, এলএসডি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। মশা-মাছি, মুখের লালা ও খামারে অব্যবস্থাপনার কারণে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত পশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হয়, খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়, শরীরে ব্যথা হয়। পরে শরীরে গুটি দেখা দেয়, যা থেকে পুঁজ জমে মাংস খসে পড়ে। এতে গরুর প্রজনন, ওজন ও দুধ উৎপাদন কমে যায়।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথম লাম্পি স্কিন ডিজিজ শনাক্ত হয়। বর্তমানে এটিকে গবাদি পশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।