দ. কোরিয়াকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

আজ সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার আবাসিক রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন পরিচয়পত্র পেশকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। স্যামসাং, হুন্দাইসহ প্রায় শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমানে দেশে অত্যন্ত অনুকূল ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।’

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য-প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক এবং অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরও বাড়াতে নতুন রাষ্ট্রদূতকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও অন্তত আরও চার বছর এ সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কোরিয়া-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশটির ঋণ সহায়তা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গভীরভাবে আগ্রহী। তিনি সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।