রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট রবিবার, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেয়েছে পুলিশ

৩৩

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবারের (২৪ মে) মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হতে পারে।

শনিবার (২৩ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আজ রিপোর্ট হাতে পেলে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আশা করছি, আগামীকালই আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারবো।’

এর আগে বুধবার (২০ মে) গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে রুমে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এ সময় রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।

সোহেল আরও জানায়, ধর্ষণের পর সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করতে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা শরীর থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ খাটের নিচে রাখে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো পূর্ব শত্রুতা ছিল না বলেও আদালতকে জানায় সোহেল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মা খোঁজাখুঁজির সময় আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ ও বালতিতে মাথা দেখতে পান পরিবার।

জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এর কলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিনই দুজনকে আদালতে হাজির করে সোহেলের স্বীকারোক্তি ও স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে পুলিশ।

এদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।