২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

২৩

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ এনইসি।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, মোট এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়াবে তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।

এবারের এডিপি পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের আলোকে তৈরি। পাঁচটি স্তম্ভ হলো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম-সমাজ-সংস্কৃতিভিত্তিক সামাজিক সংহতি।

সংস্কার অংশে বিচার ও আইনি সেবা সম্প্রসারণ, প্রশাসন ডিজিটাল করা, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বহু বছর মেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা পাচ্ছে, যা মোট এডিপির ১৬.৭০ শতাংশ। শিক্ষায় ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি, স্বাস্থ্যে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি এবং গৃহায়ণে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগ পাচ্ছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং বিদ্যুৎ বিভাগ বড় বরাদ্দ পেয়েছে।

এবারের এডিপিতে থোক বরাদ্দ এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি, সামাজিক উন্নয়ন সহায়তায় ১৭ হাজার কোটি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের থোকে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে ছয় হাজার আট কোটি টাকার বিপরীতে থোক বরাদ্দ ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় চলমান প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকার বিপরীতে থোক ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় থোক তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকা।

সামাজিক সুরক্ষায় ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে পরিবার কার্ডের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি, কৃষক কার্ডে এক হাজার ৪০০ কোটি এবং মসজিদসহ উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্মানীতে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা ১০৭টি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি। এ ছাড়া এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্প তালিকায় আছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল, উপকূল, পার্বত্য অঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলাকে পণ্য পরিবহন কেন্দ্র করা, উপকূলীয় সুরক্ষা অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা আছে।

তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ নয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৬.১৯ শতাংশ। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন ৩৩ শতাংশের বেশি, বৈদেশিক অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জুন ২০২৭ সালের মধ্যে সমাপ্তিযোগ্য প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার আশা করছে, প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে এ এডিপি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে।