জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন দিল ব্রাজিল

২৫

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে ব্রাজিল। একই সঙ্গে উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়েও জোরালো আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে এই অবস্থানের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপের দেশ সাইপ্রাস। ব্রাজিলের পাশাপাশি আলজেরিয়াও বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে।

বৈঠকে সেলসো আমোরিম দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়াতে একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় রাজনৈতিক বোঝাপড়া খুবই প্রয়োজন। হুমায়ুন কবির এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে।

উপদেষ্টা আমোরিম জানান, জাতিসংঘে বাংলাদেশকে ব্রাজিলের সমর্থন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ। হুমায়ুন কবির ব্রাজিলের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যুদ্ধ, বৈষম্য ও জলবায়ু সংকটের এই সময়ে জাতিসংঘকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জরুরি।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ-ব্রাজিল বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে সরাসরি শিপিং চালু এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

আঞ্চলিক রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সমতা, মর্যাদা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা’র ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। বর্তমান সরকার কোনো নতজানু নীতিতে বিশ্বাস করে না। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হলে সেলসো আমোরিম জানান, তিনি বিষয়টি প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এনডিবির একটি শাখা খোলার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।