সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি: সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপিপন্থী প্যানেলের জয়

২৮

দেশের আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা। বাকি একটি সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে নীল প্যানেলের এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দুই হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৭৮৮ ভোট।

সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী দুই হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট।

সহ-সভাপতির দুটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নীল প্যানেলের মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। কোষাধ্যক্ষ পদে জয় পেয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল।

সদস্য পদে নীল প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান। অন্যদিকে সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১৩ ও ১৪ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মাঝখানে এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৪ হাজার ৪৮ জন।

এক বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের বিপরীতে এবার ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পদগুলো হলো সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, দুইজন সহ-সম্পাদক এবং সাতজন সদস্য।

সমিতির নির্বাচন নির্দলীয় হিসেবে পরিচিত হলেও বরাবরের মতো এবারও রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তিক প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

এর আগে ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থী নীল প্যানেল, জামায়াতপন্থী সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা অংশ নেন। নীল ও সবুজ প্যানেল ১৪টি করে পদে প্রার্থী দিলেও লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়। এছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।