মে’র দ্বিতীয়ার্ধে সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, বাড়বে কালবৈশাখী

২২

চলতি মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বাসস’কে জানান, ১৫ মে’র পর সাগরে লঘুচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে মে মাসে দেশে ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, এ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে সিলেটে, ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটার। এছাড়া ময়মনসিংহে ৩৪০-৩৬০, চট্টগ্রামে ৩৩০-৩৫০, রংপুরে ২৬০-২৮০, ঢাকায় ২৫০-২৭০, বরিশালে ২২০-২৫০, রাজশাহীতে ১৭০-১৯০ ও খুলনায় ১৬০-১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ থেকে ৩ দফা মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

নদ-নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য পানি বাড়তে পারে। কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩.৫ থেকে ৫.৫ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান বৃষ্টি ও মাটির আর্দ্রতা চলতি মৌসুমের কৃষিকাজের জন্য সহায়ক।

এপ্রিলে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিচ্যুতি বরিশালে, ১৬৯.৫ শতাংশ বেশি। ঢাকায় স্বাভাবিক ১১৯ মিলিমিটারের বিপরীতে হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার, সিলেটে ২৯৫ মিলিমিটারের বিপরীতে ৬০৩ মিলিমিটার। ২৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের নিকলীতে একদিনে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়। এপ্রিলে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি ও রাঙ্গামাটিতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।