নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা, আশঙ্কাজনক ১

৩৫

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ-মাসদাইর এলাকার বোয়ালিয়া খাল সংলগ্ন লিচুবাগ এলাকায় সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহে যাওয়া র‌্যাব-১১ এর সদস্যদের ওপর রামদা-চাপাতি নিয়ে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করে যৌথ অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বোয়ালিয়া খাল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল মাদক কারবারিদের অবস্থান ও তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে ওই এলাকায় যায়। প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮-১০ জনের একটি দল চাপাতি, রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র‌্যাব সদস্যদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য র‌্যাব সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতরা হলেন— নজিবুল, মাহি ও ইব্রাহিম। এর মধ্যে নজিবুলের মাথা ও হাতে গুরুতর ক্ষত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর।

র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদ ও মাসুদ ওরফে বুইট্টা মাসুদের সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন যুবককে চাপাতি ও রামদা হাতে হামলা করতে দেখা গেছে। ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মাহবুব জানান, জড়িতদের ধরতে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করেছে। র‌্যাবের ওপর হামলা করে কেউ পার পাবে না। মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অবস্থান জিরো টলারেন্স। জনগণের নিরাপত্তায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের সাধারণ চলাচলের জায়গাটি ধীরে ধীরে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ এলাকাটি এড়িয়ে চলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন এখানে মাদকের আড্ডা বসে। মাঝেমধ্যে মারামারি হয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।