মাজার ভাঙা ফৌজদারী অপরাধ এবং মাজার রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব: ফরহাদ মজহার

৪৪

মাজার ভাঙা ফৌজদারী অপরাধ এবং মাজার রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার।শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দগরিসার এলাকায় সাধক আবদুল কাদির শাহ (রহ.) এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুফিবাদ ও আত্মদর্শন’- শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ফরহাদ মজহার বলেন, একটি গোষ্ঠী মনে করে ধর্মের ব্যাপারে কথা বলার একমাত্র অধিকার তাদের এবং তাদের বাইরে আর কেউ কথা বলতে পারবে না।

ফলে মাজার ভাঙা হয়েছে, বাউলদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, অত্যাচার চলছে।

 

অনেক বাউলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আবুল সরকার এখনও কারাগারে রয়েছে। এমনকি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ এখন পর্যন্ত কারাগারে আছেন। এগুলো অন্যায়।

এই অন্যায়গুলো থেকে আমাদের সমাজকে মুক্ত হতে হবে, রাষ্ট্রকে মুক্ত হতে হবে। এটি ছাড়া প্রীতি-ভালোবাসার সমাজ গড়ে তোলা যাবে না।

 

তিনি বলেন, মাজারকে যখন আপনি ভাঙতে যান- এটা ফৌজদারী অপরাধ, এটা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। কারণ আমি একমাত্র সঠিক ধর্ম করি, আর অন্যেরটা মিথ্যা-ভুল, এটা বিচার করার ক্ষমতা আল্লাহ মানুষকে দেয়নি।

 

মাদরাসার খারাপ কাজের জন্য আমরা কি কখনও মাদরাসা বন্ধ করতে বলেছি? তাহলে মাজারে যদি কোনো খারাপ কাজ হয়ে থাকে তাহলে বলুন, ওটা বন্ধ করা হবে, সংশোধন করা হবে।  কিন্তু মাজার যখন আপনারা ভাঙেন তখন এটা ইসলামের চিন্তার মধ্যে পড়ে না।

 

তিনি আরও বলেন, যে রাষ্ট্র মাজার রক্ষা করতে পারে না, মাজার ভাঙার মতো ফৌজদারী অপরাধ ঠেকাতে পারে না- এই রাষ্ট্রাকে মানার ব্যাপার নাগরিকদের নেই। কারণ রাষ্ট্র আমাকে রক্ষা করা, মাজার রক্ষা করা, আমার বাড়ি-ঘর রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

আমরা এখনও পর্যন্ত এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি- যে রাষ্ট্র মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

আমি মাজারে যাব, নাকি অন্য কোথাও- এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। যখন রাষ্ট্র এ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে পারে না, তখন অবশ্যই আমাদেরকে রাষ্ট্রের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতে হবে।