ফিরতিযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি জোরদার: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেছেন, ঈদযাত্রার শেষ পর্যায়ে যাত্রীচাপ কমে এলেও সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিরতিযাত্রা, যা নির্বিঘ্ন রাখতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকেই বাড়ি ফেরা যাত্রীদের শেষ দিনের চাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরপর থেকে শুরু হবে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ফেরার প্রস্তুতি।

বরিশাল, চাঁদপুর, ইলিশা, পটুয়াখালী ও হাতিয়াসহ বিভিন্ন নৌরুটে যাত্রীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

লঞ্চ চলাচল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত সময়সূচির পাশাপাশি বিশেষ শিডিউলও চালু থাকে। বিশেষ শিডিউলে সাধারণত নির্ধারিত ধারণক্ষমতা পূরণ হলেই লঞ্চ ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি জাহাজের সক্ষমতা তার ফিটনেস সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত এবং তা দৃশ্যমানভাবে উল্লেখ থাকে।

কোনো লঞ্চে ফ্যান না চলা, দেরিতে ছেড়ে যাওয়া বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কোনো কোনো লঞ্চ যাত্রী পূর্ণ হওয়ার আগেই ছেড়ে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর ভিডিও নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব ভুয়া কন্টেন্ট মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে।

তাই জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আপাতত সচেতনতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আইনগত ব্যবস্থার কথাও ভাবা হবে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাজিব আহসান জানান, বর্তমানে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যেমন এর আগে পাটুরিয়া নৌপথে করা হয়েছিল।

শিমুলিয়া ঘাট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন রুট হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে এখনো পুরোপুরি অভ্যাস তৈরি হয়নি।

তবে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ভবিষ্যতে এই রুটগুলো চালু থাকলে ঈদের সময় যাত্রীচাপ আরও সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে।

লঞ্চ ছাড়ার বিষয়ে যাত্রীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মালিকরা ধারণক্ষমতা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ ছাড়তে চান না। তবে নিয়ম অনুযায়ী ধারণক্ষমতা পূর্ণ করা প্রধান শর্ত। আবার নিয়মিত শিডিউল বিকেল থেকে শুরু হওয়ায় কিছু যাত্রীকে দীর্ঘসময় অপেক্ষাও করতে হয়।