যুদ্ধের ময়দানে ‘সংহতি’ প্রকাশের জন্য পাকিস্তানকে ইরানের ধন্যবাদ

৩১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে অবিচল সমর্থনের জন্য পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ উর্দু ভাষায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ধন্যবাদ জানান। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

আরাঘচি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “এই বরকতময় দিনে, আমি আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসকের (ইসরায়েল) আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার ও জনগণের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশের জন্য পাকিস্তানের ভাই ও বোনদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে যেকোনো বাহ্যিক হুমকির মুখে দৃঢ় ও অবিচল থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকির অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় যৌথ হামলা চালালে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ এবং তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিয়েছে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তান একটি ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু স্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে। ইসলামাবাদ ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তান মূলত কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। তারা সরাসরি সামরিক যুদ্ধে না জড়িয়ে তেহরানকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত সপ্তাহে সৌদি আরব সফরের আগে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। মূলত পাকিস্তান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে চলমান ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের এই বার্তাটি এলো।

গত ১২ মার্চ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য রিয়াদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে ‘মধ্যপ্রাচ্য এবং বৃহত্তর অঞ্চলের গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি’ নিয়ে চীন, সৌদি আরব, কুয়েত এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

পাকিস্তান সরকার আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে উত্তেজনা প্রশমন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।