খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরানের যুদ্ধ: ট্রাম্প

৩৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে।
গত ১০ দিনের এই সংঘাতকে তিনি একটি ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আরও বড় হামলার হুমকিও দিয়েছেন।

সোমবার ফ্লোরিডার ডোরালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওই দিনই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় ইরানে কঠোরপন্থীরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করছিলেন। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, বেসামরিক এলাকা এবং তেল শোধনাগার ও লবণাক্ত পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, তবে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্প বলেন, আমি কোনো সন্ত্রাসী সরকারকে বিশ্বের তেল সরবরাহ বন্ধ করে পৃথিবীকে জিম্মি করতে দেব না। ইরান যদি এমন কিছু করে, তাহলে তাদের ওপর অনেক বড় মাত্রায় হামলা হবে।

তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা দেবে এবং প্রয়োজনে সুরক্ষার জন্য মার্কিন বাহিনী তাদের সঙ্গে থাকতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আজ থেকে আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে, এবং একের পর এক সেসব স্থানে হামলা চলছে।

তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, হয়তো তারও কম।

এর আগে ডোরালে নিজের গলফ ক্লাবে রিপাবলিকান সমর্থকদের এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরান অভিযানের বর্ণনা দেন ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ হিসেবে।

তিনি বলেন, আমরা একটু অভিযান চালিয়েছি, কারণ কিছু মানুষকে সরানো দরকার ছিল। তার মতে, আমরা অনেক দিক থেকেই ইতোমধ্যে জিতেছি, কিন্তু এখনো যথেষ্ট জিতিনি।

এই সংবাদ সম্মেলনের আগে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উঠে আসে।

ট্রাম্প বলেন, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে ‘সহযোগিতা করতে চান’। তবে তিনি পুতিনকে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারলে সেটাই বেশি সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, পুতিন সোমবার নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ সিদ্ধান্তে ‘হতাশ’। তার মতে, এটি সম্ভবত দেশের জন্য একই ধরনের সমস্যার ধারাবাহিকতা তৈরি করবে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা হামলার লক্ষ্য হতে পারেন কি না? এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা ‘অনুচিত’ হবে।

তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যেই নির্বাচিত হোক, প্রয়োজন হলে তাকে হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

ট্রাম্প ফের দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক অভিযান না চালালে ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত।

তার বলেন, তারা অনেক আগেই সেটি ব্যবহার করত, আর অন্তত ইসরায়েল নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।