বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ছিল: জামায়াত আমির

১৭

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ওই যোগসূত্রের কারণেই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদন আজও জনসমক্ষে আনা হয়নি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, তখন দুইটা তদন্ত কমিশন গঠন হয়েছিল। একটা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে, আরেকটা তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ থেকে। দুইটা তদন্তের কোনো রিপোর্টই জনগণ জানতে পারল না এবং সেটা আলোর মুখ দেখল না। কেন দেখল না? যদি এ তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসত জাতির সামনে তাহলে হয়তো অনেক সত্য পরিষ্কার হয়ে যেত। নিশ্চয়ই তখন যারা ক্ষমতাসীন ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের গভীর সম্পর্ক ছিল। যার কারণে তারা চাননি যে এই রিপোর্টগুলো প্রকাশ পাক।

অবিলম্বে মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রধান ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন,  খুনের নেপথ্যের কারিগর যারা ছিল, পরিকল্পনাকারী ছিল, ষড়যন্ত্রকারী ছিল যারা তাদেরকে উৎসাহ জুগিয়েছে এবং যারা এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে আমরা মনে করি তারা সকলেই সমানভাবে দোষী। তাদের সবাইকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

যদি এই সরকার বিচারের আওতায় আনতে পারে তাহলে এই জাতির কিছু দায় মুক্তি হবে, দায় মোচন হবে। যদি এই সরকার না আনতে পারে তাহলে এটা সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে পরিগণিত হবে। আমরা আশা করি সরকার তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।

‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এত সেনা অফিসার মারা যাননি। দুইটা বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে একদিনে কোথাও এত সেনা অফিসারকে খুন করা হয়নি।

এটা ছিল দুনিয়ায় নজিরবিহীন। এর আগে এ ধরনের আর কোনো উদাহরণ নাই। এতগুলা মানুষ আমাদের বুক থেকে কেড়ে নেওয়া হলো মূলত এই দেশকে সামরিক শক্তির দিক থেকে কোমর ভেঙে দেওয়ার এটি ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ’

 ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তার দায় কীভাবে অস্বীকার করবেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায় কীভাবে অস্বীকার করবেন? এরা সবাই দোষী। এরা কেউ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন না, দাবিও করতে পারবেন না। আমরা চাই লতাপাতা নয় যারা শাখা-প্রশাখা আছে তারা না, মূল গাছগুলোই যেন চিহ্নিত হয় এবং মূল গাছগুলোর যেন বিচার সঠিকভাবে হয়’,- বলেন জামায়াত আমির।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান।