আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান

৩৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় আবারও শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় যখন মানুষ পবিত্র রমজান মাসের ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ভূ-কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল পার্শ্ববর্তী আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বত অঞ্চল। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০১ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হওয়ায় এর প্রভাব সীমান্ত ছাড়িয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার শাংলা, সোয়াত, মারদান, সোয়াবি এবং নওশেরা জেলায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পন শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঘরবাড়ির আসবাবপত্র দুলতে থাকে এবং অনেক জায়গায় ভবনে ফাটল ধরার আতঙ্ক তৈরি হয়। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা ঘটায় অনেক রোজাদার খাবারের টেবিল ছেড়ে প্রাণভয়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। শুধু খাইবার পাখতুনখাওয়া নয়, পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোর এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এই হিন্দুকুশ অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার উৎপত্তিস্থল ছিল খুজদার শহরের কাছে।

ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তান ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়। ২০০৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো পাকিস্তানের মানুষের মনে সতেজ, যাতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।