রোজা সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার আবারো যেই সেই!

৪২

রোজা সামনে রেখে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম আগের মতোই চোখে পড়ছে। বিশেষ করে বেগুন, লেবু ও কলার দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া শসা, কাঁচামরিচসহ আরও কয়েকটি পণ্যের দামও বেড়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা শহরের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, গত বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই ব্যবসায়ীরা আবার পুরনো কৌশল অবলম্বন করছেন। নির্বাচনের কারণে যথাযথ বাজার তদারকি না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন সরকার দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে বিক্রেতারা দাবি করছেন, কিছু পণ্যের সরবরাহে চাহিদার চাপে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বেগুন: রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুলের বাজারে বেগুনের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে দাম ছিল ৬০–৭০ টাকা। গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০–১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শসা: কেজিতে ৯০–১০০ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৭০–৮০ টাকা।

কাঁচামরিচ: কেজি প্রতি ১৪০–১৮০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০–১৪০ টাকার মধ্যে।

লেবু: সরবরাহ বেড়েছে, তবু দর কমেনি। মাঝারি আকারের প্রতি হালি ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি: খুচরায় ১৯০–২০০ টাকা, সোনালি জাতের মুরগি ৩০০–৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কলা: সরবরাহ কমে দাম বেড়ে ১৪০–১৫০ টাকা প্রতি ডজন। সবরি কলা ১৬০–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের মতে, রোজার আগে উচ্চ চাহিদা ও কিছু পণ্যের সীমিত সরবরাহের কারণে দাম বেড়েছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি জানিয়েছেন, ক্ষমতা বদলের সময়ে বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন।

রাজধানীর বাইরেও দাম বৃদ্ধির একই চিত্র দেখা গেছে। বগুড়ায় নিত্যপণ্যের দাম কেজিতে ৭–১০ টাকা বেড়েছে, কিশোরগঞ্জে লেবুর দাম তিন গুণ ও বেগুনের দাম আড়াই গুণ বেড়েছে। সিলেট ও নওগাঁর খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে ১০–১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ময়মনসিংহে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৮০–১৮৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

রমজানের আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সবজি, ফল ও মুরগির দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।