বিমানের সাবেক এমডির বাসায় নির্যাতনের শিকার শিশুর প্রসঙ্গে যা বললেন চিকিৎসক

২৮

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসায় দীর্ঘ আট মাস ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১ বছর বয়সী গৃহকর্মী মোহনা। বর্তমানে শিশুটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ জানিয়েছেন, মোহনা বর্তমানে ‘তীব্র মানসিক ট্রমার’ মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের দগদগে ক্ষতগুলোর চেয়েও তার মনের গহীনে সেই পাশবিকতার ছাপ এখন অনেক বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসক শেখ ফরহাদ আরও জানান, দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি শিশুটি মারাত্মক মানসিক সংকটে ভুগছে। তার সুস্বাস্থ্যের জন্য এখন জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদী সাইকোথেরাপি দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোহনার সারা শরীরে মারধর ও গরম খুন্তির পোড়া ক্ষতের দগদগে চিহ্ন রয়েছে। এসব শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি শিশুটি তীব্র রক্তস্বল্পতায় ভুগছে এবং তার মানসিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে মোহনা জানায়, ওই বাসায় তাকে দিনের অধিকাংশ সময় বাথরুমে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। সামান্য কোনো ভুলের জন্যই গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। এমনকি তাকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও কঠোরভাবে বাধা দেওয়া হতো।

অভাবের সংসারে একটু স্বচ্ছলতার আশায় মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা তাকে কাজে দিলেও তাকে ফেরত দেওয়া হয় ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়। অভিযোগ রয়েছে, মোহনার বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তবেই মেয়েকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে নির্যাতিতা শিশুটিকে দেখতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে শিশু মোহনার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।