মোংলা বন্দরে তেল অপসারণের আধুনিক প্রকল্প উদ্বোধন নৌ উপদেষ্টার

৪৫

মোংলা বন্দরে বর্জ্য ও তেল অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেলে বন্দরের মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের পাড়ে নবনির্মিত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ প্রকল্পে রয়েছে দুইটি তেল অপসারণকারী জলযান, একটি বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান, পিআরএফ প্লান্ট, একটি ডাম্প বার্জ, একটি সেল্ফ প্রপেল্ড বার্জ, একটি সার্ভিস টাগ বোট, একটি পন্টুন, জেটি ও ইয়ার্ড।

প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্দরে আসা জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল ও বর্জ্য পানিতে মিশে নদী-সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে।

এ সমস্ত বর্জ্য অপসারণের জন্য এ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের প্লান্ট সকল বন্দরে স্থাপন এখন জরুরি। আগামী ২০৩৫ সাল কিংবা তার আগে এই প্রক্রিয়াকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) মারপোল কনভেনশন আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ তেল ছড়িয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও সেই জাহাজের খরচেই তেল নিষ্কাশনের বিধান রয়েছে। এছাড়া জাহাজ ডুবে গেলে তার তেল অপসারণ করাও সেই জাহাজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান, কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য ও পরিচালক কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য ড. একেএম আনিসুর রহমানসহ অন্যরা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ মারপোল কনভেনশন-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে নিজস্ব সমুদ্রসীমাকে দূষণ থেকে রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সংস্থাটির শর্তাবলি নিশ্চিত করে নির্মিত এই প্লান্টটি বন্দরে আগত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে দূষিত তরল ও অন্যান্য বর্জ্য নিরাপদে স্থানান্তর ও পরিশোধন করে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া, নতুন এই প্লান্টের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য— এটি সংগৃহীত বর্জ্য পরিশোধনের পাশাপাশি পুনরায় তা ব্যবহারযোগ্য তরল ও অন্যান্য উপাদানে রূপান্তর করতে সক্ষম।