গাজার গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইসিসিতে মামলা

১৯

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এবং তার মন্ত্রিসভার দুই সদস্যকে গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে ‘সহযোগিতার’ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশিত হয়। 

মেলোনি নিজেই মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলায় তার সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান লিওনার্দোর প্রধান রবার্তো চিনগোলানির নাম এসেছে।

মেলোনি তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক ও বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা বিশ্বে বা ইতিহাসে বিরল। তিনি  বলেন, ইতালি গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলে কোনও নতুন অস্ত্রের সরবরাহ অনুমোদন করেনি। এদিকে, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লিওনার্দোর প্রধান চিনগোলানিও এই অভিযোগকে ‘গুরুতর ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এই অভিযোগের পটভূমিতে ইতালিতে গত এক সপ্তাহ ধরে গাজায় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকে সরাসরি মেলোনির সরকারের নীতির প্রতি ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

ইতালির ক্ষমতাসীন ডানপন্থি সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা গাজায় ইসরায়েলি হামলা ঘিরে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ সমালোচনা করেছে। তবু ইতালি এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেনি এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। 

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি পাল্টা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।