আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনা দেখি না: জাহেদ উর রহমান

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের কোনো সম্ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে দেখেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার না করে পুনর্মিলনের আলোচনা হতে পারে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার ও অনুতাপের পরিবর্তে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকে পুনর্মিলনের কথা তুলেছিলেন। কিন্তু দুই বছর পার হলেও দলটির আচরণে সেই সম্ভাবনা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ক্ষমা চাওয়া দূরে থাক, তারা হুমকি দিচ্ছেন, সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলে সেটা আওয়ামী লীগকেই দায় স্বীকার করে বলার কথা ছিল।

দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও পুনর্মিলন হবে কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, দায় স্বীকার করলেই রিকনসিলিয়েশন শুরু হবে এমন নয়। তখন আলোচনা করা যায় কি না, সেই আলোচনা হতে পারে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ হয়েছে, তিনি দায়ী বিবেচিত হয়েছেন ও শাস্তি হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ও ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরেও বিষয়টি তোলা হয়েছে।

অপসাংবাদিকতা রোধে প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান কাউন্সিলের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়, আইন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের মনোবল প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার আমলে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে বাহিনীর প্রতি মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও মনোবলের সংকট ছিল, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পুলিশ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে, তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি।