রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী  ছাত্রদল। একইসঙ্গে, হামলায় জড়িতদের বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ এবং ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এদিকে, হামলার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিষয়ে জানা গেছে, আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম হামলায় অংশ নেন।

এর মধ্যে শাহরিয়ার আলম অথি ও সাজহারুল ইসলাম ছাড়া কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, হামলাকারীদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তীর নামও রয়েছে। তিনি আগে শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কর্মী। প্রথম বর্ষে তিনি ড্রপআউট হন।

চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে আহসান হাবীবের নেতৃত্বে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল গেটের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন।

এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে আহসান হাবীবের ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ফাঁস হওয়া কথোপকথন নিয়ে সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। তবে, আহসান হাবীব তখন দাবি করেছিলেন, ফোনালাপটি সম্পাদনা করা হয়েছিল।

অব্যাহতির কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের জুনে, রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তাকে মারধর করে টাকা নেওয়া হয় এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ওই অভিযোগে আহসান হাবীবের নামও ছিল।

অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলামও চলতি বছরের আগস্টে সাত পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ আটক হয়েছিলেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজের মালিকানা দাবি করে অন্যের ফুডকার্ট দখলে নেওয়া এবং বহিরাগতদের নিয়ে রাবির এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে, হামলাকারীদের কেউ অছাত্র নন বলে দাবি করেছেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি বলেন, “না, অছাত্র কেউ নেই। গতকালের বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। কোনো অন্যায়কারীকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কেন এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, “আগের ঘটনাগুলো পরে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে এবার আমাদের আরো সতর্কভাবে তদন্ত করতে হচ্ছে। আমরা সবার বক্তব্য নিচ্ছি। যারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তাদের বক্তব্যও নিয়েছি। তাদের বক্তব্য যাচাই করে যদি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”