বাংলাদেশের জালে ইন্দোনেশিয়ার ৯ গোল, হ্যাটট্রিক হারের লজ্জা হামজাদের

আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে লক্ষ্য হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে ৩-৪ পয়েন্ট অর্জনের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মাঠের পারফরম্যান্সে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষে সামতে দাঁড়াতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিনরা।

প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলের সম্মানজনক ব্যবধানে হারলেও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে রীতিমতো লজ্জায় ডুবিয়ে হামজা-মোরসালিনরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ দল।

বিস্তারিত আসছে….

আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে লক্ষ্য হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে ৩-৪ পয়েন্ট অর্জনের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মাঠের পারফরম্যান্সে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষে সামতে দাঁড়াতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিনরা।

প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলের সম্মানজনক ব্যবধানে হারলেও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে রীতিমতো লজ্জায় ডুবিয়ে হামজা-মোরসালিনরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ দল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্লো স্টেডিয়ামে শেখ মোরসালিনের জায়গায় শাহরিয়ার ইমন একাদশে নামেন। ম্যাচে প্রথমার্ধে ৬-১ গোলে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। তবে স্বাগতিকদের প্রথম ১০ মিনিট আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। একটু খোলামেলা খেলার চেষ্টা করেছে। তবে পরের মিনিট থেকে ইন্দোনেশিয়ার জাদু দেখানো শুরু হয়।

১১ মিনিটে থ্রো-ইন থেকে ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে যায়। রোমিনির কাটব্যাক থেকে মিসেল বেকারের গড়ানো প্লেসিং শট দূরের পোস্ট দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। শ্রাবণ ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি। ১৪ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার আরও একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়। শ্রাবণ গোল হতে দেননি। ১৯ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারেননি কেউ।

প্রতি আক্রমণ থেকে স্বাগতিকররা উল্টো এগিয়ে যায়। মিসেল বেকার আবারও গোলদাতা। জটলা থেকে দীর্ঘদেহী এই ফরোয়ার্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩২ মিনিটে স্বাগতিকরা ৩-০ স্কোরলাইন করে। ওরাটমাংগোয়েনের কাটব্যাক থেকে তারিক কাজীর ক্লিয়ারেন্স গিয়ে পরে রিদো রিজকির পায়ে, ডান পায়ের জোরালো শটে রিদো কাঁপিয়ে দেন জাল।

৩৬ মিনিটে বাংলাদেশ এক গোল শোধ দেয়। শুকির মাপা ক্রসে শাহরিয়ার ইমন দারুণ হেডে স্কোরলাইন ৪-১ করেন। পরের মিনিটেই বাংলাদেশ আবারও গোল হজম করে বসে। মিসেল বেকার পোস্টের সামনে থেকে প্লেসিং করেছেন অনায়াসে।

৪২ মিনিটে ভুল পাস থেকে মিসেল বেকার হেডে নিজের চতুর্থ ও দলের হয়ে পঞ্চম গোল করেন। যোগ করা সময়ে স্কোর ৬-১ করে ইন্দোনেশিয়া। হাবনার জাস্টিন ষষ্ঠ গোল উপহার দেন। বিরতির পর ফারহান আলী ওয়াহিদ, স্বাধীন, সোহেল রানা নামেন। উঠে যান শমিত সোম, শুকি ইতোফুসা ও শাহরিয়ার ইমন।

স্বাগতিকরা এই অর্ধে অবশ্য আগের মতো গোল ব্যবধান বড়াতে পারেনি। শেষ দিকে এসে সব মিলিয়ে চার গোল হয়েছে। ৫৪ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার একজনের জোরালো শট রুখে দেন গোলকিপার। ৭৬ মিনিটে বাগটের বুলেট হেডার শ্রাবণ অসামান্য দক্ষতায় রুখে দেন।

দুই মিনিট পর ফারহানের শট সাইড নেটে লাগে। শেষ দিকে এসে উত্তেজনা আরও বাড়ে। গোলও আসে একের পর এক। ৮৯ মিনিটে হামজার পাসে ফারহানের শট ক্রস বারের ওপর দিয়ে যায়।

পরের মিনিটে ইন্দোনেশিয়া সপ্তম গোলের দেখা পায় লিউক দারুণভাবে প্লেসিং করলে। তার পরের মিনিটে রাকিবের ক্রসে ফারহান দারুণ এক শটে ব্যবধান কমান৭-২। ঠিক এরপরই সাদ উদ্দিন ফাউল করলে তার সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয়। অন্যরাও তাতে যোগ দেয়। তবে ঘটনা বেশি দূর এগোয়নি।

যোগ করা সময়ে অষ্টম গোল করেন কেবিন। শেষ মুহূর্তে তাদের আরও একটি গোলে স্বাগতিকদের ফাইনাল নিশ্চিত হয়। মিসেল বেকার তার পঞ্চম গোল করে দলকে ট্রফি ছোঁয়া দূরত্বে নিয়ে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। এতে ৯-২ গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।