৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল কাণ্ডে জিএম-ডিজিএমসহ ৫ জন বরখাস্ত

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারসহ (জিএম) ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) এস. এম. মুবতাসীম মাহবুব।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচজন হলেন— মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলাম, আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার তোরাব আলী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে চারজনকে সদর দপ্তরে এবং জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের যশোর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে অস্বাভাবিক এই বিলের ঘটনায় গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে বিল সংশোধন করা হলে মঙ্গলবার গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা। সেপ্টেম্বর মাসের বিল অনুযায়ী, ৮ আগস্ট পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫। অর্থাৎ ব্যবহার ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা, ভ্যাট ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং মিটার ভাড়া ১০ টাকা। সব মিলিয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল। অথচ ২৩৫ ইউনিটের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, বিলম্ব মাশুলসহ ২ হাজার ৫৬ টাকা।

বিলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

এ বিষয়ে ডিজিএম মো. রেজাউল করিম বলেন, মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।

জিএম মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের ভুলের কারণে সংশ্লিষ্টদের শোকজ ও পরে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, মন্ত্রী ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনিও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।