রামিসা হত্যায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড: ১৮ দিনেই বিচার শেষ, নজির গড়ল আদালত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় হয়েছে আজ রবিবার (৭ জুন)। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, আসামি সোহেল রানা সব অপরাধ স্বীকার করেছে। হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করে সে। আর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছে। এ কারণে আদালত দুজনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসা হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেয়। মামলা হওয়ার মাত্র ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে পুলিশ চার্জশিট দেয়। এরপর মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

১ জুন বিচারকের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন হয়। সেদিনই বিচার শুরু হয়। ২ জুন এক কার্যদিবসেই রামিসার বাবা-মা, বোন ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চায়। তবে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করে। ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

মাত্র ৫ কর্মদিবসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ হওয়াকে নজিরবিহীন বলছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কারণেই এত দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আইনজীবীদের মতে, রামিসা মামলার মতো অন্যান্য শিশু নির্যাতন মামলাও দ্রুত শেষ করতে বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা ও ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, দ্রুত বিচারের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত লাগবে। শিশু ধর্ষণের জন্য আলাদা তদন্ত সংস্থা দরকার।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টায় পপুলার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হয়। স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় রামিসাকে না পেয়ে তার মা খুঁজতে গিয়ে আসামিদের ঘরের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখেন।

দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সোহেল রানার শোবার ঘরে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। বাথরুমের বালতি থেকে পরে তার মাথা উদ্ধার হয়।

৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। সেদিনই সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।