ভূমি ভবনের ডে-কেয়ারে শিশুদের সঙ্গে ১৮ মিনিট, ‘আজ সবার জন্মদিন’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

৩০

ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধনের পর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টারে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে প্রাণখোলা সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সোয়া ১১টায় সেন্টারে ঢুকতেই খেলনার টুংটাং আর শিশুদের হাসিতে মুখর কক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ধরে ছোটরা।

নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে টানা ১৮ মিনিট শিশুদের মাঝে ছিলেন সরকারপ্রধান। কেউ হাত মেলায়, কেউ টেনে নেয় খেলনার কাছে, কেউ দেখায় নিজের আঁকা ছবি। প্রধানমন্ত্রী মন দিয়ে ছবি দেখেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, প্রাণ খুলে হাসেন।

শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে কেক কাটেন তিনি। নিজ হাতে বিলি করেন চকলেট, টফি, ললিপপ আর গিফট ব্যাগ। বিতরণের সময় জানতে চান, ‘আর কেউ কি বাকি আছে? পেয়েছো তোমরা সবাই?’

এরপর বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো?’ একসঙ্গে কয়েকজন বলে ওঠে, ‘আংকেল আমার, আংকেল আমার।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো, একসঙ্গে কেক কাটি।’ করতালিতে ভরে যায় কক্ষ। শিশুরা গেয়ে ওঠে, ‘হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে।’ এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে মুখে তুলে কেক খাইয়ে দেয়।

ছোট্ট আরিবা উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে, ‘আংকেলকে দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আংকেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট। এই যে গিফটও দিয়েছেন।’

ডে-কেয়ার কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না শিশুদের যত্নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জানতে চান কী খাবার দেওয়া হয়, মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকাসহ সারা দেশে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার আছে। চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এখানে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পায়। এই কেন্দ্রে ৬০ জন শিশুর মধ্যে আজ উপস্থিত ছিল ৫৫ জন।

বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে ‘টা-টা’ বলেন। শিশুরাও হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানায়। কিছুক্ষণের জন্য দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতা ভুলে নিষ্পাপ হাসির মাঝে সময় কাটান সরকারপ্রধান।

পরিদর্শনের সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।