সীমান্তে ড্রোন-রাডারে কড়া নজরদারি বিজিবির, ৬ মাসে ১৫৩৪ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

২৪

সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান, মাদক, সন্ত্রাস ও নারী-শিশু পাচার রোধে কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে ড্রোন, রাডার, থার্মাল ক্যামেরা ও হাইস্পিড বোট ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।

বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, অপরাধ দমনে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও যৌথ টহলের মাধ্যমে সীমান্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়, নদী ও সুন্দরবনের মতো এলাকাতেও দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। সংবেদনশীল এলাকায় পর্যবেক্ষণ চৌকি ও স্মার্ট ডিজিটাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত পিলার সংরক্ষণ, অবৈধ স্থাপনা প্রতিরোধ ও ভূমি দখলের অপচেষ্টা ঠেকানো বিজিবির পবিত্র দায়িত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতীয় নির্বাচন, ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও কাজ করছে বিজিবি। সীমান্তবর্তী এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষা সহায়তা ও অসচ্ছল পরিবারের কন্যাদের বিবাহে সহযোগিতার মতো জনকল্যাণমূলক কাজও চলছে।

বিজিবি জানায়, বাহিনীকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে জনবল বৃদ্ধি, নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন, বিওপি সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে। সদস্যদের অস্ত্র চালনা, শারীরিক যোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। সিন্ডিকেটদের আইনের আওতায় এনে প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তার করতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার ও উন্নত প্রশিক্ষণ দরকার।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৬ মাসে দেশব্যাপী চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৫৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯ টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য জব্দ হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্যও জব্দ করেছে বিজিবি।