অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণই সরকারের লক্ষ্য, মূলধারায় আনা হবে পিছিয়ে পড়াদের: অর্থমন্ত্রী

২৭

মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা মানুষদের অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, শুধু রাজনীতিতে নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নাগরিক হিসেবে সবাইকে অর্থনীতির মূলধারায় আনা অধিকার। এজন্য সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এসব মানদণ্ড পূরণ না হলে সরকার কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেবে না। পিকেএসএফ ভালো কাজ করছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে কী প্রয়োজন তা সরকার বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, নারীরা পুরো পরিবারকে আগলে রাখেন এবং সঞ্চয় করতে জানেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষক কার্ডও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি লজ্জাজনক। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো হবে এবং সেবা জনগণের নাগালে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের অবশিষ্ট সম্ভাবনা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

হস্তশিল্পে বড় সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ বাজার ধরতে পারছে না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শীতলপাটি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান পায়নি, কারণ এ খাতে পরিকল্পিতভাবে কাজ হয়নি। ভালো ডিজাইন পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়ায়। তাই ডিজাইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের মার্কেটিং কৌশল জরুরি।

মিউজিক ও থিয়েটারকেও সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে এসব খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ অ্যামাজনসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য ও সংস্কৃতি বিশ্ববাজারে তুলে ধরছে। বাংলাদেশকেও দ্রুত সেই পথে এগোতে হবে।

খেলাধুলাকে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ খেলা দেখতে আসে, যা জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা বাড়াতে হবে।