নীতিগত সহায়তাই সৌরবিদ্যুতের মূল বাধা : বিদ্যুৎমন্ত্রী

৩৪

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সৌরবিদ্যুতে এগোনোর পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নীতিগত সহায়তা।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তান সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির চাপ কমিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দীর্ঘদিন এ খাত থেকে বঞ্চিত ছিল। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বৈঠকে নীতিমালার ভিত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে এ খাতে বিপ্লব সম্ভব। আশির দশকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মতো সুবিধা যেমন গার্মেন্টস খাতে বিপ্লব এনেছিল, তেমনি সৌরবিদ্যুতেও সহায়ক নীতি দিলে খাতটি দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইনভার্টার, ফ্রেম ও ফটোভোল্টাইক প্যানেল আমদানিতে সহজ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা সহজে সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে পারেন। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যাটারি স্টোরেজে। কারণ দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যার পিক আওয়ারে চাহিদা মেটাতে ব্যাটারি জরুরি। উদ্যোক্তাদের করের চাপ কমিয়ে সাশ্রয়ীভাবে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতি আনা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই নীতিমালা চূড়ান্ত করে জুনের মধ্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে সরকারি আদেশ জারি হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে ভবন মালিককে বিদ্যুৎ দেবেন। মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিল সমন্বয় হবে এবং ভবন মালিকও অংশ পাবেন। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য খাতটি লাভজনক হবে এবং রাজধানীর বিদ্যুতের চাপ কমবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ।

আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ এফইআরবি।