ইরানে অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন, দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের

৩২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্জিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন এক উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি এই তথ্য জানায়।

এদিকে, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে চরম উসকানিমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ চলতি সপ্তাহের শুরুতেই চীন দাবি করেছিল তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন মূলত কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই অস্ত্রগুলো নিচ দিয়ে ওড়া মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, চীন সরাসরি নয় বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এসব অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে যাতে প্রকৃত উৎস গোপন রাখা যায়। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সম্প্রতি ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্ভবত হাতে বহনযোগ্য তাপ-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “চীন কখনোই সংঘাতের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি। এটি একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ। দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে চীন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরঞ্জিত প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।”

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকোক্ত করতে চায়। বিশেষ করে ইরানের তেলের ওপর বেইজিংয়ের ব্যাপক নির্ভরশীলতা এই সম্পর্কের অন্যতম মূল ভিত্তি। চীন যুক্তি দিতে পারে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র নয়, বরং এটি আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জাম।

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের সামরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিএনএন-এর আগে জানিয়েছিল,  রাশিয়া এই যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে, যা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সাহায্য করেছে।