শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির রুবেল

২৮

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল।

কারচুপির অভিযোগে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২৮টি কেন্দ্র এবং পোস্টাল ব্যালটসহ প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এক লাখ ১৯ হাজার ৬৬৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং প্রভাব বিস্তার করে জোরপূর্বক সিল মারা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি দলের অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয় বলে দাবি করেন এই প্রার্থী।

তবে এই অভিযোগ নাকচ করে শেরপুর জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচন চলাকালীন কোনো প্রার্থীর পক্ষে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ভোট বর্জন করাটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলার নামান্তর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত থাকা এই আসনটিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনাবাহিনীসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় টহল দেন।

উল্লেখ্য, জামায়াতের আগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন।