বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত, ৫০ বছর পর রেলকে দিলেন ২০ হাজার টাকা

প্রায় পাঁচ দশক আগে কিশোর বয়সে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করেছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম (৬২)। দীর্ঘ ৫০ বছর পর নিজের সেই ‘অপরিশোধিত দায়’ স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি।

মফিজুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি রেল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অর্থ জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়মুক্ত হন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মফিজুল ইসলাম জানান, ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের দিকে তিনি কাঁঠাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় শ্রীপুর থেকে ঢাকায় ট্রেনের ছাদে করে কাঁঠাল পরিবহন করতেন। ওই সময়ে অনেকবার তিনি টিকিট ছাড়াই ট্রেনে যাতায়াত করেছেন।

তিনি বলেন, টিকিট ছাড়া ২-৩ বছর ট্রেনে যাতায়াত করেছি। অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, রেলের পাওনা ফেরত দেওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত বিবেকের তাড়নায় এই টাকা পরিশোধ করেছি।

স্টেশনমাস্টার মো. সাইদুর রহমান জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে পুরোনো বকেয়া বা অনিষ্পন্ন ভাড়ার অর্থ পরিশোধের একটি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মফিজুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা জমা দেন।

তিনি আরও জানান, গত ২৮ মার্চ বিশেষ রশিদের মাধ্যমে ওই অর্থ রেলওয়ে কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। একসঙ্গে এত টাকার টিকিট ইস্যুর সুযোগ না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষ্পত্তি করা হয়।

সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজের ভুল স্বীকার করে দায়মুক্ত হওয়ার এমন মানসিকতা বিরল। আমরা টাকা অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

তিনি আরও জানান, দেশের যেকোনো রেলস্টেশনের মাধ্যমে এ ধরনের পুরোনো পাওনা বা অনিষ্পন্ন ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব।

মফিজুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই একে সততা, অনুশোচনা ও নৈতিক দায়বোধের বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।