‘বিগত সময়ে দেশের জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে’

২৭

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিগত সময়ে দেশের জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ে আমাদের জ্বালানি খাতকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে। ফলে আজ আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছি। একটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা যখন বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন বৈশ্বিক যেকোনো সংকট আমাদের অর্থনীতিকে সরাসরি আঘাত করে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এখন জ্বালানির বহুমুখী উৎসের সন্ধান করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দাম সমন্বয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানির উৎসগুলো কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। টেকসই অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে জ্বালানি খাতকে স্বাবলম্বী করার কোনো বিকল্প নেই।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।