খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক, এলো যে বার্তা

২৪

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক টেবিলে বসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে দিল্লির হায়দারাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর কোনো মন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে এক নতুন বার্তাই দিলেন দুই শীর্ষ কূটনীতিক।

বৈঠক শেষে ড. এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানান, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী দিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নানা অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনঃপ্রবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানিচুক্তির নবায়ন এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধে পদক্ষেপ।

এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রবর্তন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশটিতে মানবতাবিরোধী অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরানো, শীর্ষ নেতাদের সফর বিনিময় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন নিশ্চিতকরণ বিষয়গুলো প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। এছাড়াও আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

দিল্লির দাপ্তরিক বৈঠকের বাইরেও একটি বড় চমক অপেক্ষা করছে আগামী ৯ এপ্রিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান একই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মরিশাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। প্রায় আট ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিমান যাত্রাকে কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে দাপ্তরিক পরিবেশের বাইরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একান্ত পরিবেশে সম্পর্কের আরও গভীরে গিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এই ‘ফ্লাইট ডিপ্লোম্যাসি’ বা বিমান কূটনীতির মাধ্যমেই অনেক জটিল ইস্যু বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত জটিলতার একটি কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।