কমে যাচ্ছে কর্মঘণ্টা, বিয়েতে করা যাবে না আলোকসজ্জা

২২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আসন্ন সংকটের কথা মাথায় রেখে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের নতুন সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখার সর্বোচ্চ সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সেইসঙ্গে বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে সরকারের নতুন এসব সিদ্ধান্ত।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ হয় রাত সাড়ে ১১টায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সরকারে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অফিস সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে ৭ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

সেইসঙ্গে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

পাশাপাশি, সন্ধ্যা ৬টা পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। শুধু তাই নয়, বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী তিন মাসের জন্য নতুন যানবাহন ক্রয় বন্ধ এবং সরকারি অর্থায়নে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিক্ষার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জায়গায় যে চাহিদা আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে সেটা বিবেচনা করে নিয়ে রোববার থেকে কিছু আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। এছাড়া, সরকারি কিছু ব্যয় কমানো হচ্ছে আগামী তিন মাস পর্যন্ত। সরকারি কোনও নতুন যানবহন ক্রয় করা হবে না। কোনও জলযান ক্রয় করা হবে না। কোনও আকাশযান ক্রয় করা হবে না। কোন কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় করা হবে না। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ যেগুলো আছে সেগুলো ৫০ শতাংশ বন্ধ করা হয়েছে। কোন আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নের সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ করা হয়েছে।

নাসিমুল গনি আরও বলেন, সভা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এই খাতে আমাদের যে ব্যয়টা হতো, সরকার সেটা আরও ৩০ শতাংশ কমানো আজকে এফেক্টিভ হয়ে গেলে। তারপর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমাতে বলা হয়েছে। এখানে আমরা ৩০ শতাংশ হ্রাস করে দিচ্ছি।