ব্যয়বহুল বোলিংয়ে হারল কলকাতা, মুস্তাফিজ থাকলে বদলাতে পারত ম্যাচের চিত্র

৬১

মোস্তফা কামাল তোহা, প্রিয় আলোঃ আইপিএলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দেখা গেল ব্যাটিং ঝড়ের দাপট, আর সেই ঝড়ে কার্যত উড়ে গেল কলকাতা দলের বোলিং আক্রমণ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২২০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে কলকাতা। এমন স্কোর টি-টোয়েন্টিতে অনেক সময় ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট হলেও, এদিন সেটিও নিরাপদ ছিল না।

২২০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বই যে ইতিহাস গড়বে, তা হয়তো শুরুতে কেউ ভাবেনি। অতীতে কলকাতার দেওয়া এমন লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির ছিল না তাদের। কিন্তু এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটন। ওপেনিং জুটিতে তারা গড়ে তোলেন ১৪৮ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ, যা মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

রোহিত শর্মা মাত্র ৩৮ বলে ৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৬টি ছক্কা। অন্যদিকে রিকেলটন ৪৩ বলে ৮১ রান করে কলকাতার বোলারদের ওপর চরম চাপ তৈরি করেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা ও ৪টি চার। শেষ পর্যন্ত ৫ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে মুম্বই।

এই ম্যাচে কলকাতার বোলিং ছিল একেবারেই পরিকল্পনাহীন ও ব্যয়বহুল। বৈভব অরোরা ৪ ওভারে ৫২ রান দেন, বরুণ চক্রবর্তী ৪৮, কার্তিক ত্যাগি ৪৩ রান খরচ করেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও সুনীল নারিনও রান আটকাতে পারেননি। পুরো বোলিং ইউনিটের ইকোনমি ১০-এর অনেক ওপরে থাকায় প্রতিপক্ষের ওপর কোনো চাপ তৈরি হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ এর মতো বোলারের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমান তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ, ধীরগতির কাটার এবং ডেথ ওভারে বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার ক্যারিয়ারের ইকোনমি সাধারণত ৭.৫ থেকে ৮-এর মধ্যে, যা এমন রানবন্যার ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারত।

ওয়াংখেড়ের মতো ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে যেখানে অন্য বোলাররা ধারাবাহিকভাবে ১০ থেকে ১৩ ইকোনমিতে রান দিয়েছেন, সেখানে মুস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ পেসার থাকলে অন্তত কিছু ওভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে শেষে ও ডেথ ওভারে তার স্লোয়ার ও কাটার বল ব্যাটসম্যানদের টাইমিং নষ্ট করে চাপ তৈরি করতে পারত।

এই ম্যাচের বিশ্লেষণে স্পষ্ট, কলকাতার বোলিং আক্রমণে ছিল ভ্যারিয়েশন ও নিয়ন্ত্রণের অভাব। বড় স্কোর করার পরও সেই স্কোর রক্ষা করতে না পারা দলের জন্য বড় ধাক্কা। এমন পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজুর রহমানের মতো কৌশলী ও অভিজ্ঞ বোলার দলে থাকলে ম্যাচের গতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারত।

 

বিশ্লেষণঃ মোস্তফা কামাল তোহা, ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার, রেডিও ধ্বনি ৯১.২ এফএম।