ইরানে হামলা না করার ঘোষণা উপসাগরীয় দেশগুলোর, একা হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

৪৫

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং তাদের ভূখণ্ডও এমন হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।

বৃহস্পতিবার রিয়াদ-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান।

বৈঠকের দিকে নজর ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর, তবে সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর তারা হতাশ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইরানে তথাকথিত রেজিম চেঞ্জ ও পরমানু অস্ত্র আছে, এসব অজুহাতে হামলার পর কার্যত ধীরে ধীরে একা হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের কথায় ইরানে হামলা করে এখন ইরান ইস্যু থেকে কিছুতেই বের হয়ে আসতে পারছেন না ট্রাম্প।

জিসিসি মহাসচিব আল বুদেইর বৈঠক শেষে জানান, সদস্য দেশগুলো স্পষ্টভাবে যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়।

তারা মনে করে, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত আলোচনার মাধ্যমেই শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে যেসব স্থানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

এতে আরব দেশগুলো ক্ষুব্ধ হলেও তারা পাল্টা সামরিক জবাব না দিয়ে সংযত অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে, আরব দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এর নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী।

তবে জিসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

জিসিসি দেশগুলো আরও জানিয়েছে, তারা অঞ্চলে উত্তেজনা না বাড়িয়ে বরং শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। গত কয়েক বছর ধরেই তারা সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আসছে।

এমনকি পূর্বের আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ও তারা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী-এর অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।

ইতোমধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, জিসিসির বার্তা স্পষ্ট—তারা যুদ্ধ নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধান চায়।

আর এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।