সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: ৪৯ ঘণ্টা পর মিলল নিখোঁজ মিরাজের মরদেহ

১০

রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ৪৯ ঘণ্টা পর নিখোঁজ মিরাজ ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জের লবণের মিল সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বরিশাল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে।

নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি পরে নিহতের স্বজনরা শনাক্ত করেছেন। বর্তমানে মরদেহটি মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন মিরাজ ফকিরের ছেলে সোহেল ফকির (২২)। এ ছাড়া সোহেলের স্ত্রী রুবা ফকির (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নৌ-পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত সোহেল ফকিরের চাচা ও নিখোঁজ মিরাজ ফকিরের বড় ভাই সিরাজ ফকির বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট দুই লঞ্চের স্টাফ এবং পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদরঘাট এলাকায় ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী ওঠানো হচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে এক যাত্রী পিষ্ট হন এবং রুবা ফকির নদীতে পড়ে যান। একই সময় ঘষাঘষির মধ্যে পড়ে নিখোঁজ হন মিরাজ ফকির।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে রুবাকে পানির নিচ থেকে তুলে হাসপাতালে পাঠায়।

দুর্ঘটনার পরপরই নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে টানা অনুসন্ধানের পর অবশেষে ৪৯ ঘণ্টা পর মিরাজ ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।