ইরানকে সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা আছে’

৩৩

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার ঘটনায় তেহরানকে কঠোর হুশিঁয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। খবর আল-জাজিরার।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তার দেশ ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা সহ্যের একটা মাত্রা আছে। তিনি তেহরানকে অবিলম্বে তাদের কৌশল ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা এবং শক্তি’ রয়েছে যা প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, তেহরানের কূটনীতিকরা অস্বীকার করলেও ইরান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার কৌশল সাজিয়েছে।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “এই হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের নির্ভুলতা- যা আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং এই রাজ্যেও দেখা গেছে- তা নির্দেশ করে যে এটি পূর্বপরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং সুচিন্তিত ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সৌদি আরব ঠিক কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তা আমি প্রকাশ করব না, কারণ ইরানিদের আগাম সংকেত দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তবে আমি মনে করি ইরানিদের বোঝা উচিত যে সৌদি আরব এবং আক্রান্ত হওয়া তার অংশীদারদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে যা তারা চাইলে প্রয়োগ করতে পারে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা যে ধৈর্য দেখাচ্ছি তা অসীম নয়। তাদের (ইরানের) হাতে কি একদিন, দুই দিন নাকি এক সপ্তাহ সময় আছে? আমি সেটা আগাম জানাব না। আমি আশা করি তারা আজকের বৈঠকের বার্তা বুঝতে পারবে, দ্রুত তাদের কৌশল পুনর্নির্ধারণ করবে এবং প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধ করবে। তবে তাদের সেই প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি আছে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।”

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সালের এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন বুধবার (১৮ মার্চ) কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস কেন্দ্রে ইরানি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাস লাফান শিল্প নগরীতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের ২০ শতাংশ উৎপাদন করে।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আগে সতর্ক করেছিল যে, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বুধবার রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল জানান, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে ঠিকই, কিন্তু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। কারণ তেহরানের এসব কর্মকাণ্ডে দেশগুলোর মধ্যে ‘আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে’।

তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে ইরান গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কৌশল তৈরি করছে। এটি বর্তমান পরিস্থিতির কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তাদের যুদ্ধ পরিকল্পনার অংশ- প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপে ফেলা।”

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, “যদি ইরান এখনই এসব বন্ধ না করে, তাহলে আমি মনে করি ভবিষ্যতে সেই বিশ্বাস পুনর্গঠন করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”