ইরানে সবচেয়ে তীব্র হামলা হবে আজ: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

২৭

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে নতুন করে তীব্রতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আজ মঙ্গলবারই (১০ মার্চ) হতে পারে হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ দিন—এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এইদিন সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং হামলা পরিচালনা করা হবে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য, অভিযান এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ‘নির্ভুলভাবে’ ধ্বংস করা হচ্ছে।

মার্কিন বাহিনী যে অভিযানে নেমেছে, তার নাম দেয়া হয়েছে অপারেশন এপিক ফিউরি। অভিযানের দশম দিনে এসে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় দুর্বল হয়ে পড়েছে তেহরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, হুতি এবং হামাস এখন আর কার্যকরভাবে সক্রিয় নেই। ফলে ইরান কার্যত একা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেগসেথ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবির বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান তাদের সক্ষমতার তুলনায় সবচেয়ে কম সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনিকে দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। সেই সঙ্গে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘নিজের দিকে খেয়াল রাখুন যেন নিজেই নির্মূল হয়ে না যান’।

গত সোমবার ট্রাম্প ইরান ও দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আগের হামলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তভাবে আঘাত হানবে। তিনি বলেন, এমন হামলা হবে যাতে ইরানকে আর কখনো পুনর্গঠন করা সম্ভব না হয়।

এই হুমকির জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লারিজানি লিখেছেন, ‘ইরান আপনার ফাঁকা হুমকিকে ভয় পায় না। আপনার চেয়েও বড়রা ইরানকে নির্মূল করতে পারেনি। নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন যেন নির্মূল হয়ে না যান!’