ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল তেল আবিব

৩৭

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আজ আবারও প্রকম্পিত হয়ে উঠল ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এবারের অভিযানে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলকে, যেখানে ইরানের অত্যাধুনিক ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই ইরান থেকে ছোড়া একাধিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মরিয়া চেষ্টা চালায়। আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে মাঝপথে বাধা দেওয়ার (ইন্টারসেপ্ট) সময় পুরো তেল আবিব শহর জুড়ে বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়। এই ঘটনার পর পর শহরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া না হলেও বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল নজিরবিহীন।

আইআরজিসির তথ্যমতে, শুক্রবারের এই হামলাটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত সামরিক অভিযান। এতে কেবল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তাদের ছোড়া খেইবার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক গলে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলের নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই বিশেষ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্রটি এর পাল্লা এবং নির্ভুল নিশানার জন্য পরিচিত, যা প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে দিতে অত্যন্ত কার্যকর।

বিস্ফোরণের শব্দ কেবল তেল আবিবেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি জনবহুল এলাকাতেও শোনা গেছে।