লেবাননে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্যবস্তু: যেসব দেশে রয়েছে মিশন

৫৭

মোস্তফা কামাল তোহাঃ লেবাননে ইরান সংশ্লিষ্ট কোনো মিশনে ইসরায়েল হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননে ইরান সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের কূটনৈতিক মিশনগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে ইসরায়েলের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব মিশন মূলত কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং নাগরিক সেবা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে।

যেসব অঞ্চলে ইসরায়েলের দূতাবাস রয়েছে

উত্তর আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রধান দূতাবাস ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে কনস্যুলেট কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ইউরোপ
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও ইউক্রেনসহ অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে ইসরায়েলের দূতাবাস রয়েছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে ইসরায়েল কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইসরায়েল দূতাবাস স্থাপন করেছে। এছাড়া জর্ডান ও মিশরেও দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি দূতাবাস কার্যক্রম চালু রয়েছে।

আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া ও মরক্কোসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে ইসরায়েলের কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে।

লাতিন আমেরিকা
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া, পেরু, পানামা ও কোস্টারিকাসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল দূতাবাস পরিচালনা করছে।

নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে ইসরায়েলি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকেও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাত বিস্তার রোধ এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।