চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রপতি বিদেশ যেতে চাইলে আটকে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার!

১২

চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সেই আবেদন ‘নাকচ’ করে দেয় ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন এ কথা বলেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব প্রকাশের পর আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ অংশ প্রকাশিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে আমার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সার্জারির এক বছর পর সেখানকার হাসপাতালে আমার ফলোআপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সময়মতো আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। প্রত্যুত্তরে আমাকে সরাসরি নিষেধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, যদি প্রয়োজন হয়, বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করবেন, তবু বিদেশে যাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, একইভাবে লন্ডনে কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে সেখানেও যেতে দেয়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা ১৪ বার বিদেশে গেছেন, অথচ আমি চিকিৎসার জন্য যেতে পারিনি। মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি ভেঙে পড়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি; এতে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। আর এটা করতে পারলেই নির্বাচন বিলম্ব করানো বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেত। নিজেদের মনমতো রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়—এই ভাবনা থেকেই আমার ওপর মানসিক পীড়ন চালিয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্বে এখন নির্বাচিত সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে চলতি মাসে সরকার গঠন করে বিএনপি। আর এর মধ্য দিয়েই বিদায় ঘটে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। এই দেড় বছরে সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও অনেকটা আড়ালে ও নিপীড়িত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ে যেন এখন মুক্তির স্বস্তিবোধ করছেন তিনি। সেসব কথাই উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে।