ইরানে ভয়ংকর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা

৬৩
ইরানে ভয়ংকর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রমজান মাস এলেই যেন মুসলিম দেশগুলোতে হামলার খড়গ নেমে আসে পরাশক্তি দেশগুলো থেকে।

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হামলার নির্দেশ দেন, তবে ইরানের বিরুদ্ধে টানা কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। রয়টার্সের দুই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, এবারের পরিকল্পনাটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত এবং দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। এই প্রকাশ্য সামরিক প্রস্তুতি তেহরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ওপর এক বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার খবর পাওয়া গেলেও, সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে পেন্টাগন। গত শুক্রবার উত্তর ক্যারোলিনায় মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প সরাসরি বলেন যে, ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তার মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝে মাঝে ভীতি প্রদর্শনের প্রয়োজন হয়। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, ইরানের বিষয়ে ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্প পথই খোলা রয়েছে এবং তিনি জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না।

পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তুতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী, কয়েক হাজার সেনা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে।

গত বছর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত আকারে পাল্টা আক্রমণ চালায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু পরমাণু কেন্দ্র নয় বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী হামলা চালায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে।

ইরানের হাতে থাকা বিশাল মিসাইল ভাণ্ডার এই সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স