মার্কিন আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যা বললেন মাদুরো

৩৮

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেই দাবি করলেন নিকোলাস মাদুরো। সোমবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি বলেন, আমি নির্দোষ। আমাকে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়েছে। আমি একজন ভদ্র মানুষ। আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।

৬৩ বছর বয়সী মাদুরো নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দি’ বলেও উল্লেখ করেছেন। আদালতে পড়ে শোনানো সব অভিযোগই মাদুরো অস্বীকার করেছেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কোকেন-পাচারকারী একটি নেটওয়ার্ক তত্ত্বাবধান করেছিলেন, যারা মেক্সিকোর সিনালোয়া এবং জেটাস কার্টেল, কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী এবং ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়া গ্যাংসহ সহিংস গোষ্ঠীগুলোর সাথে অংশীদার ছিল।

মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন, দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

এদিকে, মার্কিন রাজনীতিবিদরা যখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের নাটকীয় আটকের ঘটনায় জর্জরিত, তখন সোমবার ভেনেজুয়েলায় একটি জরুরি আদেশ জারি করা হয়, যা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়। যাতে শনিবারের মার্কিন হামলার সমর্থক যে কাউকে তল্লাশি করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়।

এছাড়া সোমবারও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এর বৈধতা এবং তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক করে। রাশিয়া, চীন এবং ভেনেজুয়েলার বামপন্থি মিত্ররা এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন ট্রাম্প। এরপর নিউইয়র্কের একটি আদালতে তার বিচার করার কথা জানায় হোয়াইট হাউজ।

সোমবার সকালে, মাদুরো – তার হাত বাঁধা এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ব্রুকলিনের একটি আটক কেন্দ্র থেকে হেলিকপ্টারে করে কৌশলগত পোশাক পরিহিত রক্ষীরা পাহারা দিয়ে আদালতে নিয়ে যান। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।